সরকার ড. ইউনূসকে হয়রানি করছে না: আইনমন্ত্রী
সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে না বলে দাবি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দুটো কথাই- সরকার ড. ইউনূসকে হয়রানির করার জন্য কিছু করছে না, সরকার ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে না। যে মামলা হয়েছে, সেটা শ্রমিকরা করেছিল। এরপর শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত যে অধিদপ্তর আছে, সেই ডিপার্টমেন্ট তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও বিদেশে ছড়ানো হচ্ছে- তার (ড. ইউনূস) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সেগুলো প্রথমে মিথ্যা এবং বলা হচ্ছে আমরা তাকে হয়রানির জন্য এটা করছি।’
তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। অপরাধ করলে সবাইকে আইনের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা বহুদিন বিচারহীনতায় ভুগেছি। আওয়ামী লীগের চেয়ে আর কেউ বিচারহীনতার শিকার হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতির শিকার আর কেউ হয়নি। যে কারণে আমরা খুব ভালোভাবে বুঝি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ দেশ থেকে দূর হওয়া দরকার।
সেই অভিপ্রায় বাস্তবায়নে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে আনিসুল হক আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই শ্রমিকরা তাদের অধিকার পাচ্ছেন। বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যে চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটাকে আমরা ডিফিট (পরাজিত) করবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এবং সর্বপরি বাংলাদেশের মর্যাদা ও গণতন্ত্র, ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন করার জন্য একটা মামলাকে কেন্দ্র করে কিছু অপপ্রচার হচ্ছে। আপনারা জানেন, আমি আইনমন্ত্রী হিসেবে গেল ১০ বছর একটি বিষয় সবসময় মেনে চলেছি, সেটা হচ্ছে কোনো বিচারাধীন মামলা নিয়ে আমি কোনো কথা বলি না। কিন্তু যেখানে সরকার, বিচার বিভাগ ও দেশের ব্যাপার জড়িত, সেখানে যখন দেশের মর্যাদা হেয় করার প্রচেষ্টা চলে, তখন আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।
আইনমন্ত্রী জানান, সে কারণে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে যে মামলা করা হয়েছিল, তার কার্যাবলী ও পরিপ্রেক্ষিত আপনাদের ব্যাখ্যা করার জন্যই এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশ শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী একজন পরিদর্শক যে কোনো কোম্পানি নিয়ে অভিযোগ থাকলে যদি মনে হয় তারা আইন লঙ্ঘন করছে, তবে সেটা পরিদর্শন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শ্রম বিভাগের পরিদর্শক শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী প্রথমে গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কিছু আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে বলে জানতে পেয়েছেন। পরে ১ মার্চ গ্রামীণ টেলিফোনকে চিঠি দেন। এ সব লঙ্ঘনের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য কী এবং এসব লঙ্ঘন যাতে তারা শুধরে নেন, সেটা বলেন।
আরও পড়ুনঃ গণমাধ্যমে আরও পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী





