শুক্রবার বইমেলায় প্রথম শিশুপ্রহরে উৎসবের আমেজ!
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী ফেব্রুয়ারির শেষ প্রান্তে এসে অনিশ্চয়তার দোলাচল কাটিয়ে বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পবিত্র রমজান মাসের কারণে এ বছর মেলার সময়সূচিতে আনা হয়েছে বিশেষ পরিবর্তন, যাতে ধর্মীয় অনুশাসন ও সাংস্কৃতিক চর্চার সমন্বয় থাকে।
রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এ মেলা বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিজুড়ে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হলেও চলতি বছর নানা অনিশ্চয়তা ও প্রস্তুতিজনিত জটিলতায় উদ্বোধন নিয়ে ছিল আলোচনা। অবশেষে গতকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার স্থান নয়; এটি চিন্তার মুক্তবাজার, মতপ্রকাশের উন্মুক্ত মঞ্চ। ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার আহ্বান জানান তিনি। প্রকাশক ও লেখকদের সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিতে সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বাস দেন।
রমজান মাসকে বিবেচনায় নিয়ে মেলার সময়সূচিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে শুক্র ও শনিবারসহ সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। এসব দিনে মেলার দ্বার খুলবে সকাল ১১টায়। বেলা ১টা পর্যন্ত শুধুমাত্র শিশু-কিশোরদের জন্য নির্ধারিত থাকবে সময়টি। এরপর দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন।
আজ শুক্রবার মেলার প্রথম শিশুপ্রহর অনুষ্ঠিত। আয়োজকদের আশা, শিশুদের জন্য নির্ধারিত এই সময় তাদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে। শিশুপ্রহরে গল্পপাঠ, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার মতো বিভিন্ন আয়োজনও রাখা হয়েছে।
প্রকাশকরা বলছেন, সময়সূচির এই পরিবর্তন রোজাদার দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখেই করা হয়েছে। ইফতারের আগে পরিবার-পরিজন নিয়ে বইমেলায় ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে সন্ধ্যার পরেও রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকায় কর্মজীবী মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক দলও কাজ করছে।





