“শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করতে চায় সরকার”
চলমান সংকট সরকার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
আজ বিকেলে সংসদ ভবনের টানেলে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংঘাত এড়ানোর জন্য আলোচনার দরজা খোলা রেখেছি। আমরা সংঘাতে যেতে চাচ্ছি না। কিন্তু একই সাথে বলতে চাই, সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাস করলে আইনের প্রয়োগও ঘটাতে হবে। অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে। আমরা সন্ত্রাসকে দমন করবো।’
ব্রিটেনের উদাহরণ দিয়ে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘‘সাউথপোর্টে গুজবের ওপর ভিত্তি করে যে ক্লাশ হয়েছে, সেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দ্য রায়েটার্স উইল ফেস ফুল ফোর্স অব ল’। মানে সন্ত্রাস দমনে আইনের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করা হবে। এটা ব্রিটেন বলছে। গোটা দুনিয়াতেও তাই বলে। আমাদেরও কথা হচ্ছে আইনের প্রয়োগ হবে এবং সন্ত্রাসকে দমন করা হবে। আন্দোলনকারী বা যারা দাবি জানাচ্ছে বা সাধারণ মানুষের আবেগ অনুভূতি-এই মৃত্যুগুলো বা হতাহত নিয়ে যে দাবি সেই স্পিরিটের সাথে সরকার একমত ও শ্রদ্ধা করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন আর আন্দোলনের জায়গায় নেই। এখন সন্ত্রাস-সহিংসতায় চলে গেছে। আমাদের শান্তির পক্ষে অবস্থান ছিল। আমরা আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। সহিসংতার ফলে যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল, তার বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। যারা আহত-নিহত হয়েছেন এদের মধ্যে অনেকে শিশু ছিল। এই মৃত্যুগুলোর জন্য বাংলাদেশের সতেরো কোটি মানুষ কাঁদছে। এই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার করতে হবে। তদন্ত করে জানতে হবে কারা এই হত্যাগুলো করেছে। এই শিশুরা সরকার পতনের আন্দোলন করছিল না। এই শিশুরা বেঁচে থাকলে সরকারের কি ক্ষতি হতো? এই শিশুদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সরকারের কি লাভ হয়েছে? আমি সাধারণ মানুষের বিবেকের কাছে এ প্রশ্নগুলো করতে চাই। এই মৃত্যুগুলো, এই লাশের ওপর দাঁড়িয়ে কারা এর সুবিধা নিয়েছে, মানুষকে উসকে দিয়েছে? কারা মানুষকে উসকে দিয়ে বিপথে পরিচালিত করেছে এবং তাদের বিভিন্ন ধরণের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছে?
তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, আমরা সবাই বিচার চাই। কিন্তু রায় দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার মানে বিচার চাওয়া হচ্ছে না। সরকার বিচার চায় সেজন্য বিচার বিভাগীয় কমিশন করা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় কমিশন কাজ শুরু করেছে। আজ তারা রংপুরে গেছে। তারা বিদেশি এক্সপার্টদের আনছে। তারাও এ তদন্তে ঢুকবে। তারাও বলবে তদন্তে কি পাচ্ছে, না পাচ্ছে। একবারে স্বচ্ছতার সাথে। তদন্তের পর জানা যাবে কে, কিভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। আমরা সঠিক বিচারের মাধ্যমে আসল অন্যায়কারীকে ধরতে চাই। কিন্তু যে তদন্তের আগে, বিচারের আগে রায় দিতে চাচ্ছে, বলছে সরকার দায়ী, সরকার খুনি তাহলে তো তারা বিচার চাচ্ছে না। তারা আসল অন্যায়কারীকে ধরতে চাচ্ছে না। এটা পরিস্কার। তারা কি চাচ্ছে সে ঘোষণা তারা গতকাল দিয়েছে। কোটা, অধিকার এ আসল জায়গায় তারা নেই। এ ঘোষণার পরে তারা এটা অর্জন করতে চাচ্ছে সন্ত্রাস এবং সহিংসতার পথে।





