শহীদ মিনারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ‘কোনো শঙ্কা নেই’ :ডিএমপি কমিশনার
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে রাজধানীতে কোনো নিরাপত্তাশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরতেই এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
আগামীকাল শনিবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকবেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও জানান, সাদা পোশাকের পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সোয়াট এবং সাইবার মনিটরিং টিম প্রস্তুত থাকবে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশে নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার, তল্লাশি চৌকি স্থাপন এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাগ বা বড় আকারের বস্তু বহনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া যান চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ টিম কাজ করবে। কমিশনার বলেন, “ভাষা আন্দোলনের এই দিনটি আমাদের জাতিসত্তার ভিত্তি। শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।”
প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে লাখো মানুষ খালি পায়ে শহীদ মিনারে আসেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ সুরে প্রকম্পিত হয় চারদিক। এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পুলিশ বলছে, অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।





