রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়ার আরও সক্রিয় ভূমিকা চাইল বাংলাদেশ
পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধ, অনিয়মিত অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল এমপির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।
জুলিয়ান হিল বলেন, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগই দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে দেখে অস্ট্রেলিয়া এবং ভবিষ্যতে এই অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ইউরোপসহ বিভিন্ন রুটে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বালি প্রসেসের আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশের নতুন মানবপাচারবিরোধী আইনের প্রশংসা করে জুলিয়ান হিল বলেন, আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়া কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত ও সহজ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গত ১৪ থেকে ১৮ জুন অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নিয়মিত অভিবাসন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক মানবপাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে অস্ট্রেলিয়ার আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলিয়ান হিলকে স্বাগত জানান এবং কুশল বিনিময় করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, সহকারী মন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ক্যামেরন গ্রিন, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।





