রাষ্ট্র পরিচালনা শেষে পুরোনো ঠিকানায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আবার ফিরলেন তাঁর পরিচিত কর্মক্ষেত্রে। নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের চার দিন পর রোববার ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকম ভবনে ইউনূস সেন্টারে কাজে যোগ দেন তিনি। সহকর্মীরা ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন।
একসময় রাষ্ট্রের শীর্ষ দায়িত্ব, আরেকসময় সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের পথিকৃৎ—এই দুই ভুবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইউনূসের প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, তাঁর মূল পরিচয় একজন সামাজিক উদ্যোক্তা ও উন্নয়নচিন্তক হিসেবে।
দেড় বছরের অধ্যায়
দেশের এক সংকটময় রাজনৈতিক মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। নির্বাচন আয়োজন, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা—এই তিনটি ছিল তাঁর সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী প্রশাসন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন মতভেদ ছিল, তবু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা আলোচনায় ছিল।
পুরোনো অঙ্গনে ফেরা
রোববার সকালে তিনি মিরপুরের গ্রামীণ টেলিকম ভবনে পৌঁছালে সহকর্মীরা করতালিতে তাঁকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা জানান, তিনি আগের মতোই কাজ শুরু করবেন—সামাজিক ব্যবসা, তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক উদ্যোগ নিয়ে।
ইউনূস সেন্টার মূলত সামাজিক ব্যবসার ধারণা বিস্তারে কাজ করে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারী ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে গত দেড় বছর সরাসরি এই কাজে যুক্ত থাকতে পারেননি তিনি।
রাজনীতির কেন্দ্র থেকে সরে এসে আবার সামাজিক উন্নয়ন অঙ্গনে ফেরা—একে অনেকেই একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন। ক্ষমতার চূড়া থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগের জায়গায় ফিরে আসা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরল দৃশ্য। এতে বোঝা যায়, তিনি নিজেকে মূলত রাষ্ট্রনায়ক নয়, বরং সমাজপরিবর্তনের কর্মী হিসেবেই দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ইউনূসের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতাকে কীভাবে সামাজিক উদ্যোগে কাজে লাগানো যায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও নেটওয়ার্ক দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও সামাজিক ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।





