জাতীয় ফিচার

মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ লুট, পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেফতার ৮

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাজাকার মো. আব্দুল মজিদকে (৮০) মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) ফারজানা হকসহ র‌্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে মাদারীপুর জেলার সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার জানান, গ্রেফতারকৃত মজিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণসহ মানবতা বিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ১৯৭০ সালে গঠিত জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত তালিকা মোতাবেক গ্রেফতারকৃত আসামি মজিদ নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানা জামায়াত ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও জানান, মজিদ রাজাকারদের প্রধান বাহিনী আল-বদর পুর্বধলা রামপুর থানা কমিটির প্রধান ছিল। পুর্বধলা রামপুর মৌদাম গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকসহ তার আপন দুই ভাই এবং পাঁচজন চাচাতো ভাই মিলে একই বাড়িতে মোট সাতজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল। তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করত। এজন্য আল-বদর কমিটির প্রধান আব্দুল মজিদের আক্রমনের শীকার হন তারা। ১৯৭১ সালে ২১ আগস্ট দুপুরে আব্দুল মজিদ তার দলবল নিয়ে বাড়হা গ্রামের আব্দুল খালেকের বাড়িতে আক্রমন করে। সে সময় বাড়িতে অবস্থানরত আব্দুল খালেকসহ মুক্তিবাহিনীর সকলকে মজিদ ও তার সহযোগিরা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের লাশটি পাশ্ববর্তী কংস নদীতে ফেলে দেয় তারা এবং অপরাপর মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ কোকখালী নদীতে বস্তাবন্দি করে ফেলে দিয়ে আসে। এই হত্যাকান্ডের পাশাপাশি তারা আব্দুল খালেকের বাড়িতে লুটপাট চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় মৃত আব্দুল খালেকের ভাই আব্দুল কাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে কোন রকমে প্রাণ বাঁচায়। এঘটনার পর আব্দুল কাদের ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে ঘাতক আব্দুল মজিদসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে আরও তিন জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত সাতটি অভিযোগই প্রসিকিউশনের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সাতজন আসামীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে। এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৩৬তম রায়। বিচার চলাকালে এই মামলার দুই জন আসামি (আহম্মদ আলী ও আব্দুর রহমান) মারা যায় এবং রায় হওয়ার পর পলাতক অবস্থায় মারা যায় আরও দুই আসামি (রদ্দিন মিয়া ও আব্দুস সালাম বেগ)। এ মামলার আরও দুই জন আসামি (আব্দুল খালেক তালুকদার ও কবির খাঁ) বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আন্দোলন সংগ্রাম করে কেউ কিছু করতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র