মধ্যপ্রাচ্যে সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বাংলাদেশ, অনিশ্চয়তায় হাজারো যাত্রী
ইসরাইলসহ বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে যাত্রী পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে চলমান হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কতটি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, ফ্লাইট স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগতে পারে কিংবা ইতিমধ্যে যাত্রার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাত্রীদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থাও রুট পরিবর্তন বা ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার এই পদক্ষেপকে সতর্কতামূলক বলে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যমুখী কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকে আগেভাগে টিকিট কেটে ছুটি বা কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের একটি বড় অংশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে কর্মরত। হঠাৎ ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণায় তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিমান সূত্র জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করেন। শুধু প্রবাসী কর্মীই নন, ব্যবসায়ী ও পর্যটকরাও নিয়মিত ভ্রমণ করেন। ফলে ফ্লাইট স্থগিতের প্রভাব অর্থনীতি ও প্রবাসী আয়ে পড়তে পারে, যদি পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়।
এদিকে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন বলছে, ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিতের ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা, রিফান্ড বা রি-শিডিউলিং সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীদের যথাযথ তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা বিমান সংস্থার দায়িত্ব।





