ব্যাংকের লুট ফেরত, জনকল্যাণে ব্যবহৃত হবে অন্যান্য লুটের টাকা: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দিয়েছেন, ব্যাংক থেকে লুট করা অর্থ ব্যাংকগুলোর কাছে ফেরত দেওয়া হবে, এবং ভূমি বিক্রি ও অন্যান্য খাত থেকে লুট হওয়া টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। সোমবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা অর্থনৈতিক সংস্কার ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
ড. মনসুর বলেন, “ব্যাংকিং খাত থেকে যে অর্থ লুট করা হয়েছে, তা ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ফেরত দেওয়া হবে। তবে, ভূমি বিক্রি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অন্যান্য খাত থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।
গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে লুটপাটের ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনীতি গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লুটের টাকা উদ্ধার করে তা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
অর্থনীতিবিদরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ব্যাংক থেকে লুট হওয়া অর্থ ফেরত দিয়ে ব্যাংকিং খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব। আর জনকল্যাণে অর্থ ব্যবহার অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে সাহায্য করবে।” তবে, তিনি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ বাস্তবায়নের উপর জোর দেন।
সাধারণ মানুষও এই সিদ্ধান্তে আশাবাদী। রাজধানীর একজন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, “লুটের টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হবে।” তবে, কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্ধার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, লুটপাটের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। গভর্নরের এই ঘোষণা দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও জনকল্যাণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।





