বালু-মাটি দস্যুতার লাগাম টানতে উপদেষ্টা রিজওয়ানার ১০ দফা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বালু ও মাটি দস্যুতাকে দেশের পরিবেশের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদের উৎসমুখ পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনকে ১০ দফা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বালু ও মাটি দস্যুতা চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এটি আমাদের নদী, কৃষিজমি এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য ধ্বংসাত্মক। এই লুটপাট বন্ধ না করলে পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না।” তিনি বড়াল নদের তীরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
১০ দফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থানগুলোর তালিকা তৈরি, দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি জব্দ, এবং নদী তীরে নিয়মিত টহল। এছাড়া, অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার প্রচার এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চারঘাটের স্থানীয় বাসিন্দারা রিজওয়ানার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, “বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙছে, আমাদের জমি হারাচ্ছি। এই নির্দেশনা কার্যকর হলে আমরা স্বস্তি পাব।” তবে, কিছু ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় নির্মাণ শিল্পে বালু সরবরাহে ঘাটতি হতে পারে।
পরিবেশবিদরা এই পদক্ষেপকে যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “বড়াল নদীর মতো অনেক নদীই বালু দস্যুতার শিকার। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে নদী ও জলাশয় রক্ষায় বড় অগ্রগতি হবে।”
রিজওয়ানা হাসান জানান, প্রশাসনের কাছে এক মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানান।





