ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি: ফ্রান্স-সৌদি সম্মেলনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুঁশিয়ারি
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থনে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে একটি সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন। এই সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে। তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ইসরায়েলের জাতিসংঘবিষয়ক দূত ড্যানি ড্যানন এই সম্মেলনকে ‘সার্কাস’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “এটি কোনো সহায়ক উদ্যোগ নয়। এটি সন্ত্রাসকে উসকে দেবে।”
তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলন বর্জন করবে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে পশ্চিম তীরের কিছু অংশ দখলসহ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনও বলেছে, যেসব দেশ এই উদ্যোগে অংশ নেবে, তাদের পরিণাম ভোগ করতে হবে।
এই সম্মেলন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত রোববার যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আজ ফ্রান্সসহ আরও পাঁচটি দেশ এই স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু দেশ শর্তসাপেক্ষে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে, যা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ মাসে একটি সাত পৃষ্ঠার ঘোষণাপত্র অনুমোদন করেছে, যেখানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য ‘স্পষ্ট, সময়সীমাবদ্ধ ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ’ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এতে হামাসের নিন্দা করে তাদের আত্মসমর্পণ ও নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, “এটি কোনো অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি রোডম্যাপ। এর প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি ও গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আজ আলোচনা হবে।
ইসরায়েল গাজায় হামলা জোরদার করেছে, এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ধারণা বাঁচিয়ে রাখতে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগ সাধারণ নাগরিক। গাজার মানুষ অনাহারে ভুগছে এবং বহু মানুষ বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশ নেবেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ভিসা দেয়নি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হবেন।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নাবিল জাবের বলেন, “এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিত করতে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করবে না। তবে এটি যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে।”
পশ্চিম তীরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু আল-ফাহিম বলেন, “এটি ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক অধিকার অর্জনের পথে একটি বিজয়।”
ইসরায়েলিরা, বিশেষ করে ২০২৩ সালের হামাসের হামলার পর, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ক্ষুব্ধ। তামারা রাভেহ নামে একজন ইসরায়েলি বলেন, “আমরা বারবার শান্তির প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এমন মানুষের সঙ্গে কেন শান্তি চুক্তি করব?”
ইসরায়েলের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে বন্দী করা হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে, যা এখনো চলছে।





