প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের জাতিসংঘ সফর: রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা, ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ!
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএ নজিএ) ৮০তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নয় দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষ করে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে দেশে ফিরেছেন। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট তাঁকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক এমদাদ আরিফুল ইসলাম।
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশের মানবিক অবস্থান তুলে ধরেন।
২৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি তাঁর সঙ্গে হোটেলে সাক্ষাৎ করেন। একই দিন জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রপুঞ্জ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমাও তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরের সময় অধ্যাপক ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া একটি সংবর্ধনায় অংশ নেন এবং তাঁকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া তিনি নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, ভুটান এবং কসোভোসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।





