প্রকল্পে দুর্নীতি: অন্তর্বর্তী সরকারের পুনর্মূল্যায়ন
বাংলাদেশে চলমান ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প, যার অধিকাংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল, বর্তমানে দুর্নীতি ও পরিকল্পনার ত্রুটির অভিযোগে জর্জরিত। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এসব প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলেও পুনর্মূল্যায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগের সরকারের নেওয়া বেশিরভাগ মেগা প্রকল্পে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অপরিকল্পিত ব্যয়ের কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “এসব প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, ঠিকাদার পুনর্নির্বাচন ও অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ কারণে কিছু প্রকল্পের গতি মন্থর হলেও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে আমরা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগুলো সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রকল্প চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি থেকে পূর্ণ গতিতে এগোবে। এছাড়া, মেট্রোরেলের এমআরটি-৬ লাইনের মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের জন্য জাইকার সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এমআরটি লাইন-৫ এর কাজও অব্যাহত রয়েছে।
ড. মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, “প্রকল্পগুলো দুর্নীতিমুক্ত ও সঠিক সমীক্ষার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-কে আরও ক্ষমতায়িত করা হচ্ছে। এই বিভাগ প্রকল্প পরিদর্শন করে কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।”





