পুলিশ বাহিনীতে নতুন নেতৃত্ব: এপিবিএন প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির নতুন আইজিপি
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এসেছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন সরকার গঠনের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পুলিশ বাহিনীতে নতুন গতি আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পূর্ববর্তী আইজিপি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আলী হোসেন ফকির এখন থেকে পুলিশের সার্বিক নেতৃত্ব, অপারেশন, প্রশিক্ষণ ও আধুনিকীকরণের দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিবর্তন নতুন সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মো. আলী হোসেন ফকির ১৯৬৮ সালের ৫ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স, মাস্টার্স ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জেলায় এসপি, রেঞ্জ ডিআইজি এবং এপিবিএনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে দু’বার চাকরিচ্যুতির শিকার হন—প্রথমবার চাকরিচ্যুতি এবং ২০২২ সালে বাধ্যতামূলক অবসর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসপি পদমর্যাদায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। গত বছর অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেয়ে এপিবিএনের প্রধান হন।
এই নিয়োগের পটভূমিতে রয়েছে নতুন সরকারের দ্রুত প্রশাসনিক রদবদলের ধারা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর থেকে সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও পুলিশে একের পর এক পরিবর্তন আসছে। আলী হোসেন ফকিরের নিয়োগকে অনেকে পুলিশ বাহিনীতে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে কেউ কেউ তাঁর অতীত চাকরিচ্যুতির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
পুলিশ বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এপিবিএনের মতো সশস্ত্র ইউনিট পরিচালনার দক্ষতা থেকে আসবে। এপিবিএন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন আইজিপির দায়িত্বে পুলিশের আধুনিকীকরণ, জনবান্ধব সেবা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ সামনে।





