‘পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে’
পহেলা বৈশাখের উৎসবে যখন সারা দেশ মাতোয়ারা, তখনই দেশের অন্নদাতাদের জন্য বড় উপহার নিয়ে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। নববর্ষের আবহে আয়োজিত এই কর্মসূচি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ডের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, ক্ষমতার প্রথম সপ্তাহেই কৃষকদের কল্যাণে সরকার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কথা দিয়েছিলাম এবং সেই কথা রেখেছি। প্রথম সপ্তাহেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার সুফল ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষক সরাসরি পেয়েছেন।”
কৃষক কার্ডের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, বীজ, সার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই লাভ করবেন। ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এই কাঠামোর আওতায় আনা হলে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে সরকার আশা করছে।
শিল্পায়ন ও আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা
কেবল ঋণ মওকুফ বা কার্ড বিতরণেই সরকার সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রধানমন্ত্রী কৃষিনির্ভর এলাকায় কৃষিপণ্য ভিত্তিক কলকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কৃষক যেন তার হাড়ভাঙা খাটুনির ন্যায্য দাম পান। এজন্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন অপরিহার্য।”
গতকাল সোমবার তিনি দেশের বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে বলেন, পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় কোল্ডস্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব হিমাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
-
কৃষক কার্ড: আগামী ৫ বছরে ধাপে ধাপে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে আধুনিক কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
-
ঋণ মওকুফ: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
-
উপকারভোগী: ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষক ঋণ মওকুফের সুবিধা ভোগ করেছেন।
-
শিল্পায়ন: কৃষিপ্রধান অঞ্চলে কৃষিপণ্য ভিত্তিক শিল্প ও কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ।
-
হিমাগার: দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে দেশজুড়ে আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ চেইন স্থাপন।
টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলো কৃষিখাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পহেলা বৈশাখের দিনে এই উপহার বাংলার কৃষকদের লড়াইয়ের শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক কার্ড স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ এবং হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।





