“নির্বাচনে ইসির পক্ষপাতিত্ব করার কোনো সুযোগ নেই”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, রাজনৈতিক পরিমন্ডলে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেটা নিয়ে দেনদরবার করবেন, তারা বিষয়টাকে মীমাংসা করবেন। তার ভিত্তিতে বিষয়টা কখনো যদি নিরোপিত হয়, পরিবর্তিত হয়, তখন সে পরিবর্তিত অবস্থায় নির্বাচন কেমন অবাধ হবে, সেটা তখন বোঝা যাবে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুটি রাজনৈতিক দলগুলোর মীমাংসা করতে হবে। এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যে কলহ, বিরোধ আছে সেখানে দূতিয়ালি করা আমাদের কাজ নয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এ বিষয়ে আরও কোনো মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে সাংবিধানিকভাবে এবং সংবিধানের অধীনে যে আইনগুলো হয়েছে তার অধীনে নির্বাচন যেভাবে আয়োজন করা দরকার, আমরা সেভাবে করব।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের নিরপেক্ষতা বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা চালাবো। কোনো একটি পক্ষ তখনই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন, যখন তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। কিন্তু অনেকগুলো দল নির্বাচনের বাইরে থেকে কেবল একতরফাভাবে এমন অভিযোগ করতে পারে না।
৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যারা বর্জন করছে, তাদের ভোট প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে প্রার্থী নির্বাচন থেকে বঞ্চিত রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কি না এমন প্রশ্ন করা হয় সিইসিকে।
জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এ কারণে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। নিরপেক্ষতা তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, যখন গোপনে কোনো কারচুপির আমরা সংযুক্ত হবো। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা কেউ কিন্তু বলছেন না যে নির্বাচন কমিশন নৌকাকে সমর্থন করবে বা তারা গোপনে নৌকার পক্ষে কাজ করবে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু বিএনপি বা সমমনা দলগুলোতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। আপনি যেটা বলেছেন সেই বিষয়টা পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন তখনই হতো যখন বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতো।’
পক্ষপাতের বাইরে থেকে কমিশন কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিশন পক্ষপাতমূলক হয় না। কারণ যে ৮ লাখ কর্মচারী যারা নির্বাচন কন্ডাক্ট করবেন, তারা কিন্তু সবাই ধারকৃত সরকারি কর্মচারী। তাদের ওপর নির্বাচন কমিশনকে ডিপেন্ড করতে হবে। তারা যদি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে জেলা প্রশাসন যারা রিটার্নিং অফিসার তারা পোলিং সেন্টারের ভেতরে যারা ভোট নেবেন তারাও যদি ভয়-ভীতিহীনভাবে ভোটিং প্রক্রিয়া দেখভাল করেন, তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।
আরও পড়ুনঃ “বিদেশে কর্মী না পাঠালে দেশে দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশ বাড়তো”





