‘নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ডিম হামলা: আওয়ামী লীগের ‘অনুশোচনাহীনতা’র প্রমাণ’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি এই হামলাকে আওয়ামী লীগের ‘অনুশোচনাহীনতা’র প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে মির্জা ফখরুল লিখেছেন, ‘নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা আবারও প্রমাণ করল, আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না।
আওয়ামী লীগ আজ পর্যন্ত যা করেছে, সবকিছুর বিচার আইনের মাধ্যমে হবে। দল ও দেশের স্বার্থে ধৈর্য ধরুন।’ তাঁর এই পোস্টে হাজারো লাইক, শেয়ার ও মন্তব্য এসেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে এনসিপির নেতারা বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছিলেন। ৪ নম্বর টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও সমর্থকরা আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি ডিম ছোঁড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিমানবন্দর কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, ডিমগুলো আখতার হোসেনের পিঠে লাগে, কিন্তু তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে হেঁটে চলে যান।
আখতার হোসেনের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। আওয়ামী লীগের লোকেরা তাসনিম জারাকেও লক্ষ্য করে কটূক্তিভরা স্লোগান দেয় এবং বিক্ষোভ করে। সবাই গাড়িতে উঠার পর তারা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে এবং ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। নিউইয়র্ক পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে জানা যায়, ডিম ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমানের হাত ছিল। তাকে নিউইয়র্ক পুলিশ আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিএনপির এক কর্মীকে ছুরি দিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, স্থানীয় সময় বেলা একটা থেকে ৮ নম্বর টার্মিনালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা সমবেত হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
এই ঘটনায় এনসিপি হামলাকে ‘রাজনৈতিক হিংসা’ হিসেবে নিন্দা করে এবং সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় সফরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এটি শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, সরকারের কূটনৈতিক মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থতারও প্রমাণ।”
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন নিজে বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। আমরা এতে ভয় পাই না। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ কখনো ফিরে আসতে পারবে না।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমও এই হামলা নিন্দা করে বলেছেন, বাংলাদেশের কনস্যুলেট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনার তদন্ত করবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের চিত্রের উপর প্রশ্ন তুলেছে।





