জাতীয় ফিচার

জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ তিনজনের রায় ১৩ নভেম্বর

জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিচারকাজ শেষ হয়েছে। এই মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে আগামী ১৩ নভেম্বর।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। ট্রাইব্যুনাল ১৩ নভেম্বর রায়ের তারিখ ঘোষণা করবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই গণহত্যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ আসামিদের শাস্তি না হলে শহীদ ও আহতরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।’

এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের খালাসের আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, দায় এড়াতে সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হয়েছেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এই মামলার বিচার শুরু হয়। ২৮ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও ৬ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে তিন দিন ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়, যা শেষ হয় বুধবার।

যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন সাবেক আইজিপি মামুনের রাজসাক্ষী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তিনি দায় থেকে বাঁচতে এই পথ বেছে নিয়েছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি। প্রসিকিউশন হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি তাদের খালাসের আবেদন জানান।

অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। তিনি আসামিদের সম্পত্তি বিক্রি করে শহীদ ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি মামুনের জন্য কোনো শাস্তির আবেদন করা হয়নি।

মামলায় ৮৪ জনকে সাক্ষী করা হলেও ৫৪ জন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের সবাইকে জেরা করেছেন আইনজীবী আমির হোসেন।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

মামলায় প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পরিমাণ ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২,৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে ৮১ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এই মামলার প্রতিবেদন জমা দেয়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র