গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি তথ্যমন্ত্রীর
গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। সেই অধিকার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও নিশ্চিত করতে হবে—এই দুইয়ের ভারসাম্যেই তৈরি হবে টেকসই গণমাধ্যম কাঠামো।
সভা-পরবর্তী আলাপচারিতায় তিনি স্বীকার করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, “তথ্য মন্ত্রণালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যমের এই বিস্তার ছিল না। এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব মিলিয়ে এক নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে। সেই বাস্তবতায় আমাদের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।”
বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে দেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইউটিউবভিত্তিক চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের দ্রুত প্রসার ঘটেছে। ফলে প্রচলিত প্রিন্ট ও টেলিভিশনমাধ্যমের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু নীতিমালা, নিবন্ধন, কনটেন্ট যাচাই ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলো এখনও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট।
মন্ত্রী জানান, সরকার চায় একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যম নীতিমালা পর্যালোচনা করতে। সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক পরিষদ, মালিকপক্ষ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে নিয়ন্ত্রণহীনতা নয়; বরং সুশাসন ও স্বচ্ছতার ভেতর দিয়ে স্বাধীনতার সুরক্ষা।”
বরিশাল সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক পর্যায়ে সরকারি তথ্য সরবরাহের গতি বাড়ানো এবং ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।





