“করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা এশিয়ার মধ্যে প্রথম; বিশ্বে পঞ্চম”
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছি। বিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। ওষুধ ছাড়া রোগীর সেবা করা সম্ভব নয়। তাই ওষুধ ও জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। তবেই না রোগীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
আজ সোমবার রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় মেডিকেল গ্যাস সিস্টেম প্রতিস্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত বিষয়ক গাইডলাইন এবং এসওপি সমুহের মোড়ক উন্মোচন ও অবহিতকরণ সভার আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার আগে বাংলাদেশের দৈনিক অক্সিজেন চাহিদা ছিল ৫০-৭০ টন। কিন্তু সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে অক্সিজেনের চাহিদার পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৪০০ টনে এসে দাঁড়ায়। সেই সময় দেশের প্রায় ৭০ ভাগ হাসপাতালে অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো ছিল না। মানুষের মূল্যবান জীবন বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশকে প্রতিবেশি দেশসমূহের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। আমরা সেসব মোকাবেলা করেছি। এখন আমাদের দেশে পর্যাপ্ত অক্সিজেন উৎপন্ন হয়৷
তিনি বলেন, করোনার সময় আমরা দেখেছি অক্সিজেন কত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কীভাবে অক্সিজেন বাড়াতে পারি সেদিকে গুরুত্ব দিলাম। আমরা লিকুইড প্ল্যান্ট বসালাম। অনেকেই কাজ করতে আগ্রহী ছিল না, তাদের নিয়ে আসলাম। অক্সিজেন জেনারেটর বসালাম। অনেক যুদ্ধ করে আমরা সেটা নিশ্চিত করলাম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাসপাতালে এখন ১০০টি অক্সিজেন জেনারেটর আছে। আইসিইউ থেকে বের করে নরমাল বেডে আমরা অক্সিজেন নিয়ে এসেছি। যাতে অক্সিজেন সেবা সব স্তরের রোগী পেতে পারে।
তিনি বলেন, অক্সিজেন ছাড়া যেখানে মানুষ এক মিনিটও বাঁচতে পারে না। আবার অক্সিজেনের মিস ইউজ হয়, লিকেজ হয় তাহলেও আপনি মারা যেতে পারেন। তাই অক্সিজেনের ব্যবহারের পাশাপাশি এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গাইডলাইন প্রয়োজন। যারা সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন তাদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অক্সিজেন অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এর যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার কারণে আমরা চাই না কেউ মারা যাক। কোনো দুর্ঘটনা ঘটুক। তাই আমাদের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যথাযথ ট্রেনিং পরিচালনা করতে হবে। কোনো জায়গায় কোনো লিকেজ বা সমস্যা আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
স্বাস্থ্যসেবা আগের তুলনায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছি। বিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। ওষুধ ছাড়া রোগীর সেবা করা সম্ভব নয়। তাই ওষুধ ও জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। তবেই না রোগীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী





