এলপিজি সংকট কৃত্রিম; সরকারের কঠোর অভিযান
সাম্প্রতিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, এটি পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের একাংশের যোগসাজশ ও পরিকল্পিত কারসাজির ফল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে এলপিজি ব্যবসার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সরকারের অংশ মাত্র ২ শতাংশ।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয় (জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা) করার পর কিছু বেসরকারি অপারেটর উচ্চ মূল্যের প্রত্যাশায় সরবরাহ বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকার বেশি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের শোষণ করছে। গত মাসের তুলনায় আমদানি বেড়েছে—নভেম্বরে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন থেকে ডিসেম্বরে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন—ফলে সরবরাহ ঘাটতির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
আন্তর্জাতিক শিপিংয়ে কিছু জাহাজের নিষেধাজ্ঞাজনিত জটিলতা থাকলেও চলতি মাসে এর প্রভাব পড়েনি বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কারসাজি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। জ্বালানি বিভাগের মনিটরিং টিম চট্টগ্রামসহ প্রধান কেন্দ্রে তদারকি করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও পুলিশের সহযোগিতায় মজুদদারি, জোরপূর্বক দোকান বন্ধ ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে জরিমানা ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ থাকা আউটলেটগুলো পুনরায় খোলা হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, এটি সাময়িক পরিস্থিতি এবং শিগগিরই দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বিইআরসির মূল্য নির্ধারণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় এবং সরকার ইচ্ছামতো হস্তক্ষেপ করে না। সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহে দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত এবং এলএনজি আমদানি বাড়ানো হয়েছে। শীতকালীন পাইপলাইন চাপ কারিগরি বিষয়, সরবরাহ ব্যর্থতা নয়।





