অন্যান্য ফিচার বিশ্ব সংযোগ

ইরানে হামলার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যে রণতরির জোরালো উপস্থিতি

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। এ তথ্য প্রকাশ করেছে CNN।

মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। সূত্রমতে, আকাশপথে যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ড্রোন, আর সমুদ্রপথে একাধিক রণতরি ও সহায়ক জাহাজ মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে, নির্দেশ পেলেই অভিযান শুরু করতে সক্ষম বাহিনী।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর আধুনিকতম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। পারস্য উপসাগরসংলগ্ন উপকূলে সপ্তাহান্তেই এটি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত—যা একাই শতাধিক বিমান ও হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম।

উত্তেজনার পটভূমি

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষার প্রশ্ন—এই তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। অপরদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সামরিক প্রস্তুতি কেবল সম্ভাব্য হামলার জন্য নয়; এটি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তির প্রদর্শন করে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে চায়।

সিদ্ধান্তের ভার হোয়াইট হাউসে

বর্তমানে মূল প্রশ্ন—ট্রাম্প কি সবুজ সংকেত দেবেন? হোয়াইট হাউসের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট এখনো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। সামরিক উপদেষ্টা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য সম্ভাব্য যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাত শুরু হলে তেলের বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

যদি হামলা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরানের মিত্রগোষ্ঠী ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পারস্য উপসাগরীয় জলপথে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

অন্যদিকে, সামরিক প্রস্তুতির এই উচ্চমাত্রা কূটনৈতিক সমঝোতার পথও উন্মুক্ত করতে পারে। শক্তির প্রদর্শন অনেক সময় আলোচনার পূর্বশর্ত তৈরি করে—যদিও তার ঝুঁকি থাকে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার