হাদি হত্যাকাণ্ড ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’: কাউন্সিলর বাপ্পী ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্টবাদী অবস্থানের কারণেই হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখযোগ্য অভিযুক্তরা হলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ। তিনি মোটরসাইকেল থেকে চলন্ত অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন। মাস্টারমাইন্ড ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভিন সামিয়া এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু। এছাড়া মুক্তি মাহমুদ ও সিবিয়ন ডিও-সহ আরও অনেকে কারাগারে রয়েছেন। সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদ, তার বোন জেসমিন, সহযোগী আলমগীর শেখ ও ফিলিপ।
ডিবি প্রধান জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ উল্লেখযোগ্য কিছু আলামত উদ্ধার করেছে:
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদির ওপর চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বীর যোদ্ধা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তদন্তে আরও কারও নাম বেরিয়ে এলে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।





