হঠাৎ পদত্যাগ ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বুধবার দুপুরে তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণকে পদত্যাগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকছেন।
বুধবার দুপুরে সাজ্জাত আলী বলেন, তিনি বাংলাদেশ পুলিশ-এর মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে এখনো তা গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। “সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমি দায়িত্ব পালন করে যাব,”—সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই জানান তিনি।
কেন এই পদত্যাগ?
পদত্যাগপত্রে তিনি ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে, তবু আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনো কারণ সামনে আসেনি। উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত দীর্ঘ ভাবনার ফল। তবে এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কি না, তা পরিষ্কার হতে সময় লাগতে পারে।
ডিএমপি কমিশনারের পদ দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। রাজধানী ঢাকা শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্রই নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমেরও কেন্দ্রবিন্দু। ফলে এই পদে পরিবর্তন মানেই নিরাপত্তা কৌশল ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
দায়িত্বকাল ও প্রেক্ষাপট
শেখ মো. সাজ্জাত আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রযুক্তিনির্ভরতা ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে সহকর্মীরা জানান। বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার অপরাধ দমনে কয়েকটি কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাঁর সময়ে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি, গণসমাবেশ এবং বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও কম ছিল না। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগ প্রশাসনিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
সাধারণত এ ধরনের পদত্যাগপত্র প্রথমে আইজিপি কার্যালয়ে প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা হয়, এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কমিশনার নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান কমিশনার দায়িত্বে বহাল থাকেন—এটাই প্রচলিত রীতি।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো লিখিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।





