‘সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ’: আসিফ মাহমুদ
এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, “মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ।”
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক নানা অভিযোগের বিষয়ে এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “একটা আনপপুলার অপিনিয়ন দেই। ১১ হাজার কোটি না, আমি যদি এর ১% অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকারও দুর্নীতি করতাম তাহলে দুদক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করতো না। এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট। জায়গা মতো সালামি আর গিফ্ট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না।”
তিনি আরও লেখেন, “শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও। বড় বড় নেতার ছেলেদের সাথে সমঝোতা করে বিসিবি ডিরেক্টর না বানানো, সমঝোতা করে ফ্যাসিবাদের আইকন খেলোয়াড়কে দেশে না আনা, জোর করে সিটি কর্পোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করা, গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু, ভারতীয় দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করাসহ ভুঁড়ি ভুঁড়ি বোল্ড কাজ করার পরেও যে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে বেঁচে আছি এটাই অনেক।”
আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথা নত করেননি। শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে সমঝোতা না করে বোল্ড পজিশন নেওয়াকে তার ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। “রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ করে চললে হয়তো অনেক ভালো থাকতে পারতাম, তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা লাগতো সারাজীবন,” লেখেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সঙ্গে আপোষ করেননি, যাদের কথা এই রাষ্ট্রের কেউই সহজে ফেলার সাহস করে না। “এমনটা তো হওয়ারই ছিল,” বলে পোস্ট শেষ করেন তিনি।





