সামরিক চাপেও নমনীয় নয় তেহরান: ইরান নতি স্বীকার না করায় কৌতূহলী ট্রাম্প
সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পরও ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হয়নি—এ নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ফক্স নিউজ-এর এক সাক্ষাৎকারে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, ট্রাম্প ‘হতাশ’ নন, তবে কৌতূহলী—কেন এত চাপের পরও তেহরান নতি স্বীকার করছে না।
‘মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে উইটকফ বলেন, “তিনি জানেন তার হাতে অনেক বিকল্প আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ইরান কেন এখনো আমাদের কাছে এসে বলছে না, তারা অস্ত্র চায় না এবং কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত?” তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ ও সামুদ্রিক শক্তি জোরদার করার পরও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বার্তা ওয়াশিংটনের হাতে আসেনি।
প্রেক্ষাপট: চাপে চাপে অনমনীয় তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ সীমা অতিক্রম করে অস্ত্র সক্ষমতার দিকে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক অবরোধ ও সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে একাধিক স্তরে চাপ বাড়ানো হয়। তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি জ্বালানি ও চিকিৎসা গবেষণার মতো বেসামরিক খাতে ব্যবহারের জন্য।
কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে ‘অতিরিক্ত পদক্ষেপ’ নেওয়া হতে পারে। যদিও সেই পদক্ষেপ কী, তা স্পষ্ট করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের ভাষ্য, প্রকাশ্য চাপ ও আড়ালের বার্তা—দুই পথেই ওয়াশিংটন তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে।
কেন নতি স্বীকার করছে না ইরান?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অনমনীয় অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত কারণ রয়েছে—
- অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: কঠোর অবস্থান দেখিয়ে সরকার ঘরোয়া সমর্থন ধরে রাখতে চায়।
- আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য: মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মুখোমুখি অবস্থানে ‘নরম’ বার্তা দিলে কৌশলগত দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।
- আলোচনার দর-কষাকষি: শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হলে তা যেন বেশি সুবিধাজনক হয়—এই হিসাবও থাকতে পারে।
উইটকফের মন্তব্যে স্পষ্ট, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্মিত। তিনি বলেন, “তাদের সেই অবস্থানে আনাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” অর্থাৎ, শুধু সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেই রাজনৈতিক ছাড় আদায় সম্ভব—এ ধারণা বাস্তবে চ্যালেঞ্জের মুখে।
সামনের পথ: সংঘাত না সমঝোতা?
বর্তমান পরিস্থিতি দাবা খেলায় ‘মধ্যখেলা’র মতো—দুই পক্ষই চাল দিচ্ছে, কিন্তু কেউই চূড়ান্ত আঘাত হানছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতি এক ধরনের বার্তা, আবার ইরানের অনমনীয়তা আরেকটি পাল্টা বার্তা। প্রশ্ন হলো, এই চাপ-প্রতিচাপ কি নতুন করে আলোচনার দরজা খুলবে, নাকি উত্তেজনাকে আরও বাড়াবে?





