সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার: পল্লবী থানায় এজাহার দায়ের
সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার সংক্রান্ত ঘটনায় রাজধানী ঢাকার অপরাধ রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুজন সাবেক কর্মকর্তাকে আটক করার পর ডিএমপির পল্লবী থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একই সাথে আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে রাজধানীর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ ও বিশেষ জোনাল টিম পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। মিরপুর পল্লবী এলাকা থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা এবং বনানী এলাকা থেকে সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকে আটক করা হয়। তাঁদের কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরদারিতে ছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বেশ কিছু দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সোমবার পল্লবী থানায় মামলার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পল্লবী থানায় ডিবির জোনাল টিমের পক্ষ থেকে দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুজন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহিংস উসকানি, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁচতারা চালানোর অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন চক্রের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান এবং সাইবার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছিলেন। এই ষড়যন্ত্রে আর কার কার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে, তা উদঘাটনে তাঁদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
সোমবার বিকেলে আসামিদের ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের তীব্র আবেদন জানান। রিমান্ড শুনানির সময় ডিএমপির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামূলক সংবেদনশীল বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট ভূমিকা পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে জামিনের জন্য যুক্তি পেশ করেন। কাজী গুলশান আরার আইনজীবী আদালতে বলেন, কনটেন্ট তৈরি বা সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করা কোনো ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে না এবং তাঁর মক্কেল শারীরিকভাবে অসুস্থ। অপর অভিযুক্ত দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার আইনজীবী দাবি করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার মতো কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পুলিশের কাছে নেই। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক বিশ্লেষণ শেষে বিচারক চার দিনের পুলিশি রিমান্ডের আদেশ দেন।





