শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে কড়া হুঁশিয়ারি: নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা
ভারতে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে গণমাধ্যমগুলোকে কড়া সতর্ক করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকারের প্রেস উইং আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কেউ যদি তার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে তিনি দেশে ফিরে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি হন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েকটি গণমাধ্যম আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত এই স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে। সেখানে শেখ হাসিনা মিথ্যা, উসকানিমূলক এবং ঘৃণা ছড়ানোর মতো বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশে অস্থিরতা ও সহিংসতা উসকে দিতে পারে। এই ধরনের বক্তব্য প্রচার করে গণমাধ্যমগুলো জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তিনি বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর অভিযোগে বিচারাধীন। তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও আইন অনুসারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে, যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি এমন নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তব্য প্রচার করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেলিভিশন, অনলাইন বা অন্য কোনো মাধ্যমে তার অডিও-ভিডিও সম্প্রচার করা এই আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাইব্যুনাল এমন ঘৃণামূলক বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই সতর্কবার্তা এমন সময় এসেছে যখন শেখ হাসিনা তার নির্বাসন থেকে বারবার ইউনূস সরকারকে অভিযোগ করে আসছেন যে, তারা দেশকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি’ করেছে বা ‘চরমপন্থীদের সহায়তায় ক্ষমতা দখল’ করেছে। ড. ইউনূস নিজে হাসিনার শাসনকে ‘ভয়ানক টর্নেডো’র সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, দেশ এখন স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছে।
সরকার গণমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এমন প্রচারণা দেশের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী যেমন স্বাধীনতা ঘোষণার ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংসের মতো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারী যেকোনো মাধ্যমকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।





