জাতীয় ঢাকা সংযোগ দেশ সংযোগ শীর্ষ এক

রাজধানীতে একের পর এক হামলা ও বেপরোয়া দখলচেষ্টা: নেপথ্যের গডফাদাররা এখনো অধরা

রাজধানীতে একের পর এক হামলা, জবরদখল ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের তৎপরতা।
ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে রাজধানীতে একের পর এক হামলা এবং জোরপূর্বক জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলচেষ্টার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো অপরাধী চক্র এবং নতুন গজিয়ে ওঠা কিছু সুযোগসন্ধানী গ্যাংয়ের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। গত কয়েক সপ্তাহে মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অথচ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় কিছু চুনোপুঁটি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করলেও এই সমস্ত অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল হোতা ও গডফাদাররা এখনো রয়ে গেছে সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মূল হাইলাইটস
    • ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং জমি জবরদখলের হিড়িক।
    • আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শিথিলতার সুযোগ নিয়ে পুরোনো অপরাধী ও নতুন গ্যাংগুলোর মধ্যে রক্তাক্ত আধিপত্য বিস্তার।
    • বেশিরভাগ ঘটনায় স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করার পরও দৃশ্যমান কোনো বড় অগ্রগতি নেই।
    • নেপথ্যের মূল অর্থদাতা ও রাজনৈতিক আশ্রয়দাতারা আড়ালে থাকায় সাধারণ নাগরিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা।

প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া ও ব্যবসায়ীদের অসহায়ত্ব
রাজধানীর প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক জোনগুলোতে এখন প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করত, তারা এখন খোলস বদলে নতুন নামে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে মিরপুর ও উত্তরায় ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় বহুতল শপিংমল পর্যন্ত জবরদখল করার চেষ্টা চলছে। কোনো কোনো এলাকায় গভীর রাতে দেওয়াল ভেঙে জমি দখলের ঘটনাও ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে।
রাজধানীতে একের পর এক হামলা ও ভাঙচুরের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন দোকানপাট খোলাই বন্ধ করে দিয়েছেন। কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতিগুলো নিজস্ব পাহারাদার বসিয়েও সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে পারছে না। যখনই কোনো একটি নির্দিষ্ট চক্রকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তখনই তারা বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী ভাড়া করে এনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ পুলিশি টহল বা দৃশ্যমান কোনো আইনগত কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় অপরাধীদের সাহস দিন দিন বেড়েই চলেছে।
নেপথ্যের গডফাদারদের আড়াল করার নেতিবাচক প্রবণতা
ক্রাইম রিপোর্টার ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের গভীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই সমস্ত অপরাধ কিন্তু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত মাস্টারপ্ল্যান এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন। পুলিশ মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান চালিয়ে দুই-চারজন অস্ত্রধারী টোকাই বা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে ধরে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করছে। কিন্তু যে সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি বা তথাকথিত রাজনৈতিক নেতারা এই অপরাধীদের অর্থ জোগাচ্ছেন, তাদের নাম মামলার এজাহারেই আসছে না।
ফলে মূল হোতারা আড়ালে থেকে রাজকীয় জীবনযাপন করছে এবং নতুন নতুন ক্যাডার নিয়োগ করে অপরাধের ধারা সচল রাখছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে, অপরাধীদের কোনো দল বা পরিচয় নেই। তবে মাঠপর্যায়ের ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট গডফাদারদের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও অদৃশ্য কারণে পুলিশ তাদের স্পর্শ করতে ভয় পায়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূলত অপরাধের গ্রাফকে দিন দিন ওপরে নিয়ে যাচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জরুরি দাবি
একটি দেশের রাজধানী যদি রাতে বা দিনে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ না থাকে, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর পড়তে বাধ্য। নতুন সরকার দেশের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের কথা বললেও ঢাকার ক্রাইম রেট বা অপরাধের চিত্র তা মোটেই প্রমাণ করে না। সাধারণ মানুষ এখন চায় পুলিশ যেন টেবিল টক বা আলোচনার টেবিল ছেড়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর অ্যাকশনে নামে।
পুলিশি সংস্কার ও জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন
যদি অনতিবিলম্বে পুলিশ প্রশাসন তাদের পুরোনো ঢিলেঢালা ভাব পরিহার করে প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু না করে, তবে পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই কোনো রকম রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া প্রতিটি জবরদখল ও হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবেই ঢাকার বুকে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে।

মাসুম

About Author

I am a sarvent of Allah. I follow mohammad (sm) only. "La ilaha Illallahu Muhammadur rasulullah"

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র