মেধার চেয়েও দামি আবেগীয় বুদ্ধি!
মানবজীবনের সাফল্য, মানসিক স্থিতি ও দাম্পত্য সুখের ক্ষেত্রে প্রথাগত বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ (IQ)-এর চেয়ে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বা ইকিউ (EQ) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিচ্ছেন আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক গবেষণা সতর্ক করছে যে, উচ্চ আইকিউ-এর সাথে অতি নিম্ন ইকিউ-এর সংমিশ্রণ সমাজের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
যুগের পর যুগ ধরে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক মেধা বা ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট (IQ)-কে সফলতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে এসেছি। তবে মনোবিজ্ঞানের আধুনিক বিশ্লেষণ এই ধারণার মূলে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, গণিত বা বিজ্ঞানের জটিল সূত্র মেলানোর ক্ষমতা (আইকিউ) আপনাকে হয়তো একটি ভালো চাকরি এনে দিতে পারে, কিন্তু সেই কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা, নেতৃত্ব দেওয়া এবং জীবনের সংকটে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন ইমোশনাল কোশেন্ট (EQ) বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা।
ইকিউ হলো নিজের আবেগকে চেনা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের আবেগকে অনুধাবন করে সম্পর্কের সঠিক মূল্যায়ন করার ক্ষমতা। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক জীবনযাপন, কাজের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভ, গভীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, এমনকি দাম্পত্য জীবনে প্রকৃত সুখী হওয়ার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে এই ইকিউ-এর মধ্যেই। একজন অতি মেধাবী মানুষও যদি নিজের রাগ, হতাশা ও অহংকার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে জীবনের বড় বড় ক্ষেত্রে তার ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো উচ্চ আইকিউ এবং নিম্ন ইকিউ-এর মেলবন্ধন। মনস্তত্ত্বের ভাষায় একে একটি ‘ডেডলি কম্বিনেশন’ বা মারাত্মক সংমিশ্রণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ব্যক্তিরা বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে অনন্য উচ্চতায় থাকলেও, তাদের মধ্যে সহানুভূতি, দয়া ও নৈতিকতাবোধের তীব্র ঘাটতি থাকে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, একটি ক্ষুরধার মস্তিষ্ক যখন অন্যের কষ্ট বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন সে চরম স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে। করপোরেট জগতে বড় ধরনের জালিয়াতি, সাইবার ক্রাইম, সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক নিপীড়ন কিংবা ঠান্ডা মাথায় করা অপরাধগুলোর পেছনে প্রায়শই এই ধরনের মানুষের হাত থাকে। তারা সমাজকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না, কারণ তাদের কাছে মেধা আছে কিন্তু মানবতাবোধ নেই।





