মায়ের কাছে ফিরলেন তারেক রহমান, লাখো নেতাকর্মীর বাঁধভাঙা উল্লাস
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে মায়ের কাছে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাঁধভাঙা উল্লাস। সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ফ্লাইট (বিজি-২০২) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা।
লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে একমুঠো মাটি হাতে নেন তারেক রহমান। এরপর বুলেটপ্রুফ গাড়ি বাদ দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খচিত লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে চড়ে পূর্বাচল ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পথিমধ্যে বাসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। রাস্তার দু’পাশে লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাসে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা।
সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দলের পক্ষ থেকেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে পূর্বাচলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। সেখানে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। পরে গুলশান-২-এ নিজ বাসভবনে যান। এদিন আর কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেননি তিনি।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিমানবন্দর সড়কের দু’পাশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান নেন। স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো সড়ক। নেতাকর্মীরা জানান, এত বিপুল জনসমাগম ও উল্লাস ঐতিহাসিক। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে বড় জয়ের আশা করছেন তারা।
২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে তারেক রহমান সেখানেই ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর রায় বাতিল হলে দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। তাঁর প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।





