ফেব্রুয়ারি নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকার সব প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ইভিএম প্রস্তুতি এবং প্রবাসী ভোটিং অ্যাপ চালু করেছে, যাতে ১২ কোটি ভোটার অংশ নিতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘সরকারের বড় গুরুদায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমি ঘোষণা করেছি যে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’ একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যাতে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের অনুমোদন পাবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘গত বছর আগস্ট মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিবলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলাম। এরপর আমরা এখন আমাদের মেয়াদে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি। আমাদের সরকারের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব ছিল মূলত তিনটি। হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের আয়োজন করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রথম রায় শিগগিরই দিতে যাচ্ছে।’ ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ফৌজদারি আদালতগুলোতেও জুলাই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত কিছু মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আমরা একইসাথে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের মতো নৃশংস অপরাধের বিচারকাজ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত ১৫টি গুম মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং ৫০০-এর বেশি হত্যা মামলায় তদন্ত চলছে।
সংস্কারের অগ্রগতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে সংস্কারের ক্ষেত্রেও আমরা ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার নিজ উদ্যোগে বা বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছে। প্রস্তাবিত কিছু সংস্কারের কাজ এখনও চলমান রয়েছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচার ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুশাসনের জন্য এসব সংস্কার বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।’ এর মধ্যে পুলিশ সংস্কারে নতুন নিয়োগ নীতি, ব্যাংকিং খাতে গভর্নেন্স বোর্ড পুনর্গঠন এবং ই-গভর্নমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু উল্লেখযোগ্য।
অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচিত সরকার সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সংস্কার গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ‘সরকার তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ জারির মাধ্যমে সংস্কারগুলো স্থায়ী হবে এবং নির্বাচিত সরকারকে বাধ্য করবে। এই ভাষণ জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্তিতে নতুন বাংলাদেশের রোডম্যাপ তুলে ধরেছে।





