প্রমাণের পাহাড় সত্ত্বেও লঘু দণ্ড: শহীদ আনাসের মায়ের প্রশ্ন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলের রক্তক্ষয়ী হত্যাযজ্ঞের রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি শহীদ কিশোর আনাসের মা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করার পর আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সন্তানের খুনির অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও সাজা মাত্র তিন বছর হওয়ায় বিচার ব্যবস্থা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন এই শোকাতুর মা।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার দায়ে আলোচিত এই মামলার রায় প্রদান করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন রায় এল, তখন আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ পরিবারগুলোর চোখে ছিল আশার আলো। কিন্তু রায় ঘোষণার পরপরই সেই আশার জায়গা দখল করে নেয় তীব্র ক্ষোভ আর হাহাকার।
বিশেষ করে কিশোর আনাসের মায়ের প্রতিক্রিয়া পুরো দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার সন্তানকে যেভাবে রাজপথে মারা হয়েছে, তার পরিষ্কার ভিডিও ফুটেজ আছে। সারা দুনিয়া দেখেছে কে গুলি চালিয়েছে। সেই খুনিকে যখন মাত্র তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়, তখন আমি মা হিসেবে এই বিচারকে কীভাবে মানব? এটা কি বিচারের নামে প্রহসন নয়?”
৫ আগস্টের সেই সকালটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকবদলের দিন। চানখাঁরপুল মোড়ে যখন হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মুক্তির মিছিলে শামিল, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালানো হয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট দমন-পীড়ন। সেই অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান কিশোর আনাসসহ আরও পাঁচজন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, খুব কাছ থেকে নিরস্ত্র কিশোরের ওপর চড়াও হয়েছিল পুলিশ।
আজকের রায়ে মূল অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা এবং সাজার মেয়াদের মধ্যে যে অসামঞ্জস্য ফুটে উঠেছে, তা সাধারণ মানুষের মনেও সংশয় তৈরি করেছে। শহীদ আনাসের মায়ের ভাষ্যমতে, যেখানে হত্যার ভিডিও প্রমাণ বিদ্যমান, সেখানে এমন লঘু দণ্ড অপরাধীদের উৎসাহিত করার শামিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৩ বছরের জেল তো কয়েকদিনেই পার হয়ে যাবে, কিন্তু আমার কোল যে চিরতরে খালি হলো, তার দাম কে দেবে?”





