প্রটোকল ভেঙে সাদামাটা পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে সাধারণ নাগরিকের মতো সড়কে চলাচল করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভিভিআইপি প্রটোকলের কড়াকড়ি শিথিল করায় তাঁর বহর বের হলেও তৈরি হচ্ছে না অতিরিক্ত যানজট। এতে নাগরিক ভোগান্তি, জ্বালানি অপচয় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট—সবই কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সচরাচর সরকারপ্রধানের যাতায়াতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সাময়িক অবরোধ তৈরি হয়। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে দৃশ্যপট ভিন্ন। ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল অনুযায়ী গাড়ি থামাচ্ছে, আবার সবুজ বাতি জ্বললেই এগোচ্ছে বহর। মাঝেমধ্যে সিগন্যাল পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পথচারীরা এগিয়ে এলে তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করছেন তিনি।
প্রটোকলের বাইরে এক ভিন্ন বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বলছে, অপ্রয়োজনীয় প্রটোকল কমানোর নির্দেশ তিনি নিজেই দিয়েছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকলেও অযথা সড়ক বন্ধ বা দীর্ঘ সময় যান চলাচল স্থগিত রাখার চর্চা থেকে সরে আসা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার কর্মঘণ্টা যানজটে নষ্ট হয়। উচ্চপর্যায়ের ভিআইপি চলাচলে সেই চাপ আরও বাড়ে। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সময়ানুবর্তিতায় চমক
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসে পৌঁছানোর অভ্যাস নজর কাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সকালে সময়মতো সভা শুরু এবং রাত পর্যন্ত অফিস করা—এই দুই প্রবণতা প্রশাসনে গতি আনছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পাশাপাশি হঠাৎ ডাকা সমন্বয় সভাও করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, “রকেটের গতিতে” কাজ এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ স্পষ্ট।
ব্যক্তিগত মানবিক ছোঁয়া
দায়িত্বের ব্যস্ততার মধ্যেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের খোঁজখবর রাখছেন তিনি। মায়ের পুরোনো স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজ নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিক মহলেও আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও এমন মানবিক আচরণ জনমনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ নয়; বরং শাসন সংস্কৃতির একটি বার্তা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও যদি নিয়ম মানার চর্চা দৃশ্যমান হয়, তাহলে তা নিচের স্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাফিক শৃঙ্খলা থেকে প্রশাসনিক সময়ানুবর্তিতা—সবখানেই এর প্রতিফলন ঘটতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ধারা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা ও প্রটোকলের ভারসাম্য রক্ষা করে সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। তবু আপাতত রাজধানীর সড়কে যে নতুন চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা নাগরিকদের কাছে স্বস্তির।





