“পোস্টাল ভোটিং জটিল হলেও ইসির ‘জটিল চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করবে ইসি”
পোস্টাল ভোটিংয়ের বিষয়টি জটিল হলেও আগামী ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে সেটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল, অতীতে কেউ হাত দেয়নি। বিশ্বের অনেক দেশ ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাংলাদেশে প্রথমবার চালু করছি। এছাড়া দায়িত্বরত ১০ লাখ কর্মী, সরকারি চাকরিজীবী ও কারাবন্দীদের পোস্টাল ভোটের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচন ‘বিশেষ’ হবে নতুন উদ্যোগে।
আজ (রোববার, ১৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সেমিনার কক্ষে ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির সংলাপে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। সিইসি বলেন, এ বছর অনেক নতুন উদ্যোগ নিয়েছি, বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোট। পোস্টাল ভোটিংয়ের মতো জটিল বিষয় দেখা যাবে, এজন্য নির্বাচন বিশেষ।
তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদে ৭৭ হাজার কর্মী মাঠে ছিলেন, সবাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন প্রায় ১০ লাখ লোক দায়িত্বে থাকবেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রিসাইডিং অফিসাররা নিজেরাই ভোট দিতে পারেন না। তাদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করেছি। সরকারি চাকরিজীবী ও কারাগারের বন্দীরাও ভোট দিতে পারবেন। প্রবাসীদের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ চালু হয়েছে, যেখানে ১২ কোটি ভোটারের মধ্যে ১ কোটি প্রবাসী ভোটার রেজিস্টার করতে পারবেন। ইসি ৫০টি দেশে পোস্টাল সার্ভিসের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন ৮০টির বেশি সংলাপ করে রিপোর্ট দিয়েছে, যা আমাদের কাজ এগিয়ে নিয়েছে। সুন্দর, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা দরকার। ইসির একার পক্ষে সম্ভব নয়। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করা ও নিরাপত্তায় পরামর্শ চাই। বক্তব্যের শেষে আচরণবিধি পালনের আহ্বান জানান।
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.), তাহমিদা আহমেদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ অনেকে। সকালের বৈঠকে অংশ নেয় গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। দুপুর ২টা থেকে আরও ৬টি দলের সঙ্গে সংলাপ: বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাপ, তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মোট ৪৪টি নিবন্ধিত দলের সঙ্গে সংলাপ চলবে, যাতে ইভিএম, সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।





