চীনের অনুমোদন পেলেই শুরু তিস্তা মহাপরিকল্পনা: রিজওয়ানা হাসান
দেশের সবচেয়ে বড় জলব্যবস্থাপনা উদ্যোগ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে চীন সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত আলোচনা সম্পন্ন করেছে। চীনা বিশেষজ্ঞ দল এখন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছে। তাদের অনুমোদন পাওয়া গেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নীলফামারীতে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা (Teesta River Comprehensive Management and Restoration Project) বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী অববাহিকায় ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, জমি পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একটি বহুমুখী মেগা প্রকল্প। ২০১৬ সালে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে এটি নিয়ে কাজ চলছে, যদিও বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীনের POWERCHINA-এর সঙ্গে আলোচনা ত্বরান্বিত করেছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা), যার মধ্যে চীনের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে প্রায় ৬৭০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। কাজ ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, এই প্রকল্প তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে এবং নদীভাঙন থেকে লাখো মানুষকে রক্ষা করবে। তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা হন।





