নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের হামলার অভিযোগ: এনসিপি নেতার মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরের কাছে পোর্ট অথোরিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থানায় স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা) এই মামলা দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় আখতার হোসেন এ তথ্য জানান।
হামলার ঘটনা ও মামলার বিবরণ আখতার হোসেন তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, “বিমানবন্দরে হামলার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুনরায় হোটেলের লবিতে হামলার উদ্দেশ্যে এসেছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এনসিপির সদস্যরা এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের প্রতিহত করেন এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মামলা দায়েরের পরামর্শ দিলে আমরা বিমানবন্দরের কাছের থানায় গিয়ে মামলা করি।
যাঁরা আমাদের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টা এবং হুমকি দিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।” মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, জেএফকে বিমানবন্দরে হামলার পরও হামলাকারীরা বিমানবন্দরের লবি এবং অন্যান্য স্থানে হেনস্তার চেষ্টা চালিয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে জেএফকে বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় আখতার হোসেনের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে হামলা করেন।
আখতার হোসেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমানকে ডিম ছুড়তে দেখা গেছে। এই ঘটনার পর বিএনপির এক কর্মীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে মিজানুরকে আটক করা হয়, যদিও পরে তিনি মুক্তি পান। হামলাকারীরা তাসনিম জারাকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করেন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পুলিশ ও জাতিসংঘের রিপোর্ট আখতার হোসেন জানান, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশকে অবহিত করেছেন যে হামলাকারীরা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, যারা গত বছর বাংলাদেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা পুলিশকে এই তথ্য জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের অপরাধ আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তারা বাংলাদেশে আর ফিরে আসার সুযোগ পাবে না।” বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীরা ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করছেন।
সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবাদের অনুমতি নিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় রাস্তার দুই পাশে এনসিপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা পরস্পরবিরোধী স্লোগান দেন। আখতার হোসেন এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আখতার হোসেন জোর দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখব, যতক্ষণ না ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।”





