তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র গণতন্ত্রের শত্রুতা: মির্জা ফখরুলের কঠোর হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রকারীরা গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের শত্রু। তিনি মিটফোর্ডে লালচাঁদ সোহাগ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আজ বিকেলে নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক রহমান গণতন্ত্র রক্ষার ভ্যানগার্ড। তার বিরুদ্ধে যারা অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে, তারা দেশ ও গণতন্ত্রের শত্রু। এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা।” তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। কারও পাতা ফাঁদে আমরা পা দেব না।”
মিটফোর্ডে লালচাঁদ সোহাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা দাবি জানাচ্ছি, এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।” তিনি জানান, বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুব দলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্নাসহ হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ফকিরেরপুল থেকে শুরু করে নয়া পল্টন, কাকরাইল, নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁর মোড় হয়ে মিছিলটি বিজয় নগর দিয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
বিএনপির ঐক্যের শক্তি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “১৫ বছর ধরে আমরা লাঞ্ছনা, নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গেছি, কিন্তু আমাদের ঐক্যে কেউ ফাটল ধরাতে পারেনি। আমরা সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাই।” তিনি আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের লক্ষ্যে লন্ডন বৈঠকে তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের মাথা বিগড়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই, খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করতে চাই, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়।”
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “বিএনপি জনগণের দল। এই দলকে ষড়যন্ত্র করে মুছে ফেলা যাবে না। জনগণের ভালোবাসা আমাদের শক্তি।” তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বিএনপিকে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না।”





