ট্রাম্প-পুতিন সম্পর্কে ফাটল: সংঘর্ষের পথে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ছে। রাশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদপত্র মস্কোভস্কি কোমসোমোলেটস লিখেছে, ট্রাম্প ও পুতিনের ‘ট্রেন’ একই রেললাইনে মুখোমুখি ছুটছে, কেউ থামছে না, কেউ দিক বদলাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন-রুশ সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
পুতিন ইউক্রেনে তাদের ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ অব্যাহত রেখেছেন, যুদ্ধবিরতির কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক আরোপের হুমকি ও সময়সীমা বেঁধে চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি দুটি মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিন রাশিয়ার কাছাকাছি মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। তবে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সাম্প্রতিক মস্কো সফর আশা জাগায় যে, সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পক্ষ নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। ট্রাম্প ও পুতিন ফোনে সফর নিয়ে আলোচনা করেন।
কিন্তু পুতিনের অবিচল অবস্থানে ট্রাম্প হতাশ হচ্ছেন। তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে ‘ঘৃণ্য’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং ৫০ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন, যা এ সপ্তাহে শেষ হচ্ছে।
নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের অধ্যাপক নিনা ক্রুশ্চেভা বলেন, পুতিন ট্রাম্পের হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, কারণ ট্রাম্প বারবার সময়সীমা বদলাচ্ছেন। পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান, যতক্ষণ না ইউক্রেন তাদের শর্ত মেনে নেয়।
তবে মস্কোর বিশ্লেষকরা মনে করেন, উইটকফ এবার লাভজনক প্রস্তাব নিয়ে মস্কো যেতে পারেন। ট্রাম্প সমঝোতা চাইলেও পুতিনের লক্ষ্য বিজয়। এই টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।





