চীনের সঙ্গে ড্রোন চুক্তি নিয়ে কে কী মনে করে তাতে কিছু যায় আসে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ চুক্তি নিয়ে কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের আপত্তি থাকলেও তা বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। “অন্য কে কী মনে করে তাতে কিছু যায় আসে না,” যোগ করেন তিনি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এই চুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
এই চুক্তির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অধীনে একটি আধুনিক মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি বা ড্রোন) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা গড়ে তোলা। চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল) থেকে প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রযুক্তি আমদানি, কারখানা স্থাপন ও স্থাপনা ব্যয়ে ব্যবহৃত হবে। এটি গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জিটুজি) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দর কষাকষির মাধ্যমে চীনের প্রাথমিক দর থেকে কমানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ফসল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এমন পদক্ষেপ অপরিহার্য। বিমান বাহিনীর পুরনো যুদ্ধবিমানগুলোর অনেকগুলো এখন অকেজো বা সীমিত কার্যকর। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মিডিয়াম অলটিটিউড লং এন্ডুরেন্স (এমএএলই) এবং ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (ভিটিওএল) ধরনের ড্রোন উৎপাদন শুরু হবে। ভবিষ্যতে নিজস্ব ড্রোন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করবে দেশ।
তবে এই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কিছু আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, কারণ ড্রোন প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তৌহিদ হোসেনের জবাব সোজা—বাংলাদেশ কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ালে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করবে না। এটি ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতির অংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক-প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে, যা গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আরও জোরালো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই চুক্তি শুধু প্রতিরক্ষা নয়, প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতেও সহায়ক হবে। বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গবেষণা কেন্দ্রে ইতিমধ্যে কিছু ছোট আকারের বিমান তৈরির সফলতা রয়েছে। ড্রোন কারখানা সেই পথকে আরও প্রসারিত করবে।





