অর্থ-বাণিজ্য ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

চীনকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির উত্থান

চীনকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির উত্থান

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। চীনের রপ্তানি কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হলেও একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ, যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় তৈরি পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের শীর্ষ রপ্তানিকারক চীনকে টপকে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। তবে এই অর্জনের পেছনে যেমন কৌশলগত সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু জটিল বাস্তবতাও।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কম। অর্থাৎ, সামগ্রিক বাজারই সংকুচিত হয়েছে।

এই সংকুচিত বাজারে চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়াই বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যিক চাপের কারণে চীনা পণ্যের প্রতিযোগিতা কমেছে, যার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম।

তবে বাংলাদেশের জন্য এই অগ্রগতি পুরোপুরি স্বস্তির নয়। একই সময়ে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় ৮.৫ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, বাজারে অবস্থান উন্নত হলেও প্রকৃত আয় বা রপ্তানি প্রবাহ কমেছে, যা শিল্প সংশ্লিষ্টদের জন্য উদ্বেগজনক।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চাহিদা কমেছে। ফলে সব দেশের রপ্তানিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে চীনের তুলনায় কম ক্ষতির কারণে বাংলাদেশ আপাতদৃষ্টিতে এগিয়ে রয়েছে।

এই সময়ে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রথম স্থানে রয়েছে। তাদের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত ডেলিভারি এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে ঝোঁক তাদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, শুধু অবস্থান নয়, রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তারা পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। চীনের দুর্বলতার সুযোগ পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় স্থানে
  • জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মোট আমদানি: ১,১৭৩ কোটি ডলার
  • যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি প্রায় ১৩.৫% কমেছে
  • বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮.৫%
  • ভিয়েতনাম প্রথম, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম

চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে ওঠা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা রপ্তানি হ্রাসের বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ব্যবসা-বাণিজ্য

২৫০ কর্মীর অসুস্থতায় বন্ধ হওয়া অ্যাপলের প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে

নিম্নমানের খাবার খেয়ে ২৫০ জন কর্মী অসুস্থ হওয়ার প্রায় ১ মাস পর চালু হতে যাচ্ছে অ্যাপলের পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকনের চেন্নাই