চিকিৎসার জন্য বিদেশে অর্থ ব্যয় ঠেকাতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
চিকিৎসার জন্য শত শত কোটি ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও চিকিৎসকদেরই এত টাকা বাইরে যাওয়া ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজকের এ আয়োজনে অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ। উদ্বোধনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন এভারকেয়ার গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ম্যাথু হোবার্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বব কুন্দানমাল ও এভারকেয়ার গ্রুপের গ্রুপ সিইও ম্যাসিমিলিয়ানো কোলেলা।
অনুষ্ঠানে টিপু মুনশি বলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে, নাকি মানসম্মত সেবা প্রদান নিয়ে কোনো প্রশ্ন রয়েছে, তা আমি জানি না। যা–ই থাকুক, খুঁজে বের করতে হবে। কিছু একটা করতে হবে। কোনো একটা সমাধান বের করতে হবে। চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে বাইরে যে টাকা চলে যাচ্ছে, তা কমাতেই হবে।
আরও পড়ুনঃ “বিএসএফকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা ভারতের জন্য লজ্জাজনক”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কিছুসংখ্যক মানুষ যাচ্ছেন। এখন দেশেই বাইপাস সার্জারি করা হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া অনেক কমেছে। অবশ্য চিকিৎসার খরচ বাবদ বছরে ৬ বিলিয়ন (১ বিলিয়ন সমান ১০০ কোটি) ডলার দেশের বাইরে খরচ করছেন দেশের মানুষ। উদ্যোক্তা ও বেসরকারি হাসপাতালের এ টাকা দেশে রাখার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে স্বাথ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ভালো মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশস্ত ভবন যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক-নার্স, দক্ষ টেকনিশিয়ান। এ দুই বিষয়ের সম্মিলন ঘটাতে পারলে দেশে উন্নত মানের চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে হয়েছে। সীমিত হাসপাতাল, শয্যা ও অক্সিজেন দিয়ে ১৭ কোটি মানুষের এ দেশে করোনা মোকাবিলা করা হয়েছে। ৯৮ শতাংশ মানুষকে করোনার টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এই দুই খাতেই বর্তমানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল আছে। সরকারি স্বাস্থ্য খাতে এখন তিন লাখ মানুষ কাজ করেন। এখন হাসপাতালগুলোয় ৭০ হাজার শয্যা রয়েছে। কিন্তু এটি পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাসপাতাল চালুর বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এভারকেয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে দরিদ্র শ্রেণির মানুষদের ছাড় দিয়ে এবং প্রয়োজনে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুরোধ জানান।





