গণতন্ত্র হত্যাকারীরা এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছে, যারা রাজনীতি বলতে ষড়যন্ত্রই বোঝে, সেই গণতন্ত্র হত্যাকারী মানুষ হত্যাকারীরা এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলছে। কিন্তু জনগণের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কী, তা সহজেই অনুমেয়।
আজ শনিবার সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা উন্নয়ন চায়, নাকি ধ্বংস চায়। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে হলে জনগণকে নৌকার পক্ষেই রায় দিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের নামে তারাই মায়া কান্না করছে যারা যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় এনেছিল, কার্ফু দিয়ে সরকার চালিয়েছিল। যারা বিচার হতে দেয়নি, যারা হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়। আর মানবাধিকারের নামে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী সেই পরাশক্তি।
বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উনারা রাতের অন্ধকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুসারীদের দিয়ে উপাচার্যের কক্ষ দখল করেছিল। তারা সবকিছু তাদের হিসাব দিয়ে বিবেচনা করে। যারা নর্দমার কিট তাদের নজরটাও নর্দমায় থাকে। যারা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল, যারা শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্র নিয়ে এসেছিল তারাই সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে অমর্যাদাকর বক্তব্য দিতে পারে।
ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, আজ তারা আবারও ষড়যন্ত্রে নেমেছে। কিন্তু জনগণ সত্যিকারের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তারা উন্নয়ন চায়, জনগণ সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে। তাই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের হোতা, আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের সঙ্গে জনগণ নেই। জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের আন্দোলনের কোনো ইতিবাচক ফলাফল নেই
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি, যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে, পাকিস্তানি অপশাসন টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে, দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতা রুখতে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করছে, লাখ লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে, লুটতরাজ করেছে; তারাই একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর বিচার চাওয়ার পথও রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই খুনিচক্র ২১ বার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এই চক্র ও তাদের দোসরা একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছে, ৭৫এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “সারা দেশের মানুষ যখন ঘুমান, তখন শেখ হাসিনা কাজ করেন”





