ওসমান হাদি হত্যায় উত্তাল রাজপথ: শাহবাগ-ঢাবিতে বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগে অবস্থান নেন জুলাই মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
শাহবাগে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’, ‘ওসমান হাদি শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না’, ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বন্ধ করো’—এমন স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং হাদির ছবি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করার পরিকল্পিত চক্রান্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা বলেন, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’ বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
এর আগে রাতে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইনকিলাব মঞ্চের পেজে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। পোস্টে তাঁকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, ‘আল্লাহ তাঁকে শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।’
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে নির্বাচনী গণসংযোগ করতে গিয়ে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পুনরায় আশ্বাস দিয়েছেন যে, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা হাদির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই হত্যার পেছনে যারাই জড়িত থাকুক—তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।





