এসএসসি ফলাফলে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন: ফুলিয়ে ফাঁপানোর দিন শেষ!
আগামীকাল (১০ জুলাই) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধার প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন, এবার ফলাফলে অতীতের মতো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রথা থেকে সরে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত কর্মক্ষমতার প্রতিফলন ঘটানো হবে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “অতীতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতার প্রকৃত মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হতো। কিন্তু গত ১৬ বছরে সরকারের সাফল্য প্রচারের জন্য নম্বর বাড়িয়ে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হতো, যা শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার ছিল।” তিনি জানান, এবার শিক্ষা বোর্ডগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের খাতার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে। “আমরা ফলাফলকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোর প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছি। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার যথাযথ ফল পাবে,” বলেন তিনি।
অধ্যাপক রফিকুল আবরার জানান, এবার ফলাফল প্রকাশে কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকবে না। অতীতে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা ফলাফলের বই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ফটোসেশনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করতেন। এই প্রথাকে বাহুল্য মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার তা বন্ধ করেছে। তিনি বলেন, “শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাদের কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণা করবেন। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে তাদের ফলাফল দেখতে পারবেন।”
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, “শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরীক্ষা কেন্দ্রে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। শিক্ষার্থীরা নকলের প্রতি উৎসাহিত ছিল না, যা তাদের মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছে।” তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এবারের এসএসসি ফলাফল দুই মাসেরও কম সময়ে প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য দ্রুততর। উপদেষ্টা বলেন, “অতীতে ফলাফল প্রকাশে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস সময় লাগত। শিক্ষার্থীদের সময়ের মূল্য দিয়ে আমরা দুই মাসের আগেই ফলাফল প্রকাশ করছি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দুই মাস পূর্ণ হতে এখনও পাঁচ দিন বাকি।”
শিক্ষাবিদ ড. ফারজানা রহমান বলেন, “প্রকৃত মূল্যায়নের এই পদক্ষেপ শিক্ষার মান উন্নয়নে একটি মাইলফলক। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ফলাফল দেওয়া শিক্ষার্থীদের মেধার প্রতি অবিচার ছিল। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সম্ভাবনা প্রকাশে সহায়ক হবে।” শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। এবার আমাদের প্রকৃত ফলাফল দেখতে পাব, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”
শিক্ষা উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রকৃত মূল্যায়নের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক প্রতিফলন। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ফলাফল প্রকাশ শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন পাক।”





