উত্তরার বিমান বিধ্বস্তে পরীক্ষা স্থগিত: মধ্যরাতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, শিক্ষা উপদেষ্টার ব্যাখ্যা
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের মধ্যরাতের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হন। শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, সিদ্ধান্তটি দ্রুত নেওয়া সম্ভব ছিল না এবং এটি ‘ডিউ প্রসেস’ অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এবং বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এর এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ২৪ জুলাই অর্থনীতি প্রথম পত্র এবং প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্র্যাকটিস প্রথম পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, “রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরীক্ষা পেছানোর জন্য প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে আনা, স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এটি কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়।” তিনি আরও জানান, নিয়মিত পরীক্ষা শেষে স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
মধ্যরাতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবরার বলেন, “কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অসন্তুষ্ট হয়েছেন, কেন পরীক্ষা সময়মতো হলো না। তবে কিছু শিক্ষার্থী চেয়েছিলেন পরীক্ষা চলমান থাকুক। আমাদের সবার মতামত বিবেচনা করতে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি, আমার ব্যাখ্যা শুনে তাদের ভোগান্তির ধারণা পাল্টাবে।”
মাইলস্টোনের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা শোকবার্তা বা তদন্ত কমিটি গঠন না করা প্রসঙ্গে আবরার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক প্রকাশ করেছেন, যা রাষ্ট্রের সব মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। আমাদের আলাদাভাবে শোক প্রকাশের প্রয়োজন হয়নি।” তিনি জানান, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, বৃহত্তর একটি বিষয়। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করবে।”
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানটি দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে হায়দার আলী ভবনের ছাদে আছড়ে পড়ে, যার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪৬ জন এবং সিএমএইচে ২৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জরুরি হটলাইন নম্বর (০১৯৪৯-০৪৩৬৯৭) চালু রয়েছে।





