আশুগঞ্জে মহানগর এক্সপ্রেস দুই ভাগ, ১১টি বগি রেখে চলে গেল ট্রেন
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চলন্ত অবস্থায় দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট রেলপথের আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আশুগঞ্জের যাত্রাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস সোমবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন ত্যাগ করে। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আশুগঞ্জের যাত্রাপুর এলাকায় পৌঁছানোর সময় ট্রেনের বগিগুলোর সংযোগকারী কাপলিং ভেঙে যায়।
এতে চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটি ‘ট’ ও ‘ঠ’ বগির মাঝখানে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই ভাগ হয়ে যায়। পেছনের ১১টি বগি আশুগঞ্জ স্টেশনের কাছে থেমে যায়, আর ইঞ্জিনসহ সামনের পাঁচটি বগি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মেঘনা রেলসেতুর ওপর চলে যায়।
ট্রেনের চালক ও পরিচালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ইঞ্জিনটি আশুগঞ্জ স্টেশনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়, যার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের আপলাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী আশুগঞ্জ স্টেশনের কাছে থাকা বগিগুলো থেকে হুড়োহুড়ি করে নেমে পড়েন।
আশুগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শহিদুল ইসলাম জানান, বিচ্ছিন্ন হওয়া ১১টি বগি কর্ণফুলী ট্রেনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে রাত পৌনে ৮টার দিকে আশুগঞ্জ স্টেশনে আনা হয়েছে। মেঘনা রেলসেতুর ওপর আটকে থাকা ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি ভৈরব রেলস্টেশনে নিয়ে রাখা হয়েছে। রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চললেও আপলাইনে চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ট্রেনের কাপলিং ভাঙার কারণ এবং ইঞ্জিন বিকল হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং অসুবিধার কারণে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রেলপথ সচল করতে রেলওয়ে কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছেন।





