আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না; প্রেস সচিবের স্পষ্ট ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে রেজিস্ট্রেশন স্ক্র্যাপ করেছে, বাদ দিয়েছে।’
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে—রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও উপেক্ষা নিয়ে পাঁচ মার্কিন আইনপ্রণেতা প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছেন, এ বিষয়ে মন্তব্য কী?—জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘এই চিঠি আমি অন্তত দেখিনি, আমি এই বিষয়ে জানি না, অবগত নই।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। ফলে আওয়ামী লীগ বা তার প্রতীকে কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এর আগে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সিলগালা করা হয় এবং নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বারবার বলেছেন, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। তবে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রাজনীতিতে স্থান নেই। আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধতা এই নীতিরই অংশ।
আন্তর্জাতিক মহল থেকে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান এলেও সরকারের অবস্থান অটল রয়েছে। প্রেস সচিবের এই ঘোষণা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নিশ্চিত করল। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং অন্যান্য দলের জন্য সুযোগ বাড়বে। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি উঠছে কিছু মহল থেকে।





