অব্যাহত বিমান হামলার পরও অটুট ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা: ব্লুমবার্গ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় তীব্র বিমান হামলা চালালেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও লঞ্চিং প্ল্যাটফর্মগুলো ধ্বংস করা। তবে গোয়েন্দা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আক্রমণের পরও ইরানের কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই তার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এবং গোপন ঘাঁটিতে স্থাপন করে এসেছে। মরুভূমি, পাহাড়ি অঞ্চল এবং ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ব্যবহার করে এই অবকাঠামো গড়ে তোলায় এগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বা সমন্বিত বিমান হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে আনা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, হামলার পরও ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের বড় অংশ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্লুমবার্গকে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বহু বছর ধরে বিকেন্দ্রীকৃতভাবে গড়ে উঠেছে। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস করলেও সামগ্রিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া কঠিন।
এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে ইরানের অনেক লঞ্চার মোবাইল প্ল্যাটফর্মে স্থাপন করা হয়েছে। এসব মোবাইল লঞ্চার সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়, ফলে সেগুলো শনাক্ত করা এবং লক্ষ্যবস্তু করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, তাহলে তারা যেকোনো সময় পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা বজায় রাখবে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে শুধু সামরিক শক্তি নয়, কৌশলগত অবকাঠামোর বিন্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতিরক্ষা কাঠামো এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে শত্রুপক্ষের জন্য তা দ্রুত ধ্বংস করা কঠিন হয়।





