২৫ বছরের টেস্ট যাত্রায় বাংলাদেশের জয়-পরাজয় একনজরে!
আজ বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ২৫ বছর পূর্তি। ২০০০ সালের এই দিনে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলে অভিষেক হয়েছিল টাইগারদের। এই দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের টেস্ট যাত্রা ছিল উত্থান-পতনের মিশেল।
শুরুর দিকে হারের ধাক্কা সামলে উঠে, পরবর্তীকালে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের জায়গা পোক্ত করেছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানের আলোয় এই যাত্রার সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকারা ছিলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলামের মতো খেলোয়াড়রা, যাঁরা রেকর্ড গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন।
একনজরে বাংলাদেশের টেস্ট পরিসংখ্যান
১৫৪টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশের জয়ের সংখ্যা ২৩টি, যার মধ্যে তিনটি ইনিংস ব্যবধানে। সবচেয়ে বড় জয়টি এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যেখানে টাইগাররা ২০১৮ সালে মিরপুরে ইনিংস ও ১৮৪ রানে জিতেছিল। তবে হারের সংখ্যা অনেক বেশি—১১২টি, যার ৪৭টি ইনিংস ব্যবধানে। সবচেয়ে বড় হারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে, ২০০৫ সালে কিংসটনে ইনিংস ও ২৮৩ রানে। ড্র হয়েছে ১৯টি ম্যাচ, আর টাই নেই কোনোটি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবশ্য বাংলাদেশের পারফরম্যান্স উন্নত হয়েছে—যেমন ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে ২-০ সিরিজে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়, আর ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মাঙ্গানুইতে প্রথমবারের মতো জয়।
টেস্ট অভিষেকে প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করলেও, ৫০০ ছোঁয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২০১২ সাল পর্যন্ত। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবার ৫০১ রান করে বাংলাদেশ। চার মাস পর ২০১৩ সালের মার্চে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩৮ রান করে—যা এখনও দলের সর্বোচ্চ ইনিংস।
এরপর আরও ১০ বার ৫০০ ছুঁয়েছে দল, কিন্তু ৬০০-এর দেখা আর মেলেনি। অন্যদিকে, লোয়েস্ট স্কোরের অভিজ্ঞতা প্রথম টেস্টেই—দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯১ রানে অলআউট। এরপর ১২ বার ১০০-এর নিচে অলআউট হয়েছে দল, যার মধ্যে সর্বনিম্ন ৪৩ রান (২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে)। সাম্প্রতিককালে অবশ্য ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী হয়েছে, যেমন ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫০০+ স্কোর।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের তারকারা
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম—২০ বছরের ক্যারিয়ারে ৯৮টি ম্যাচ। সবকিছু ঠিক থাকলে আয়ারল্যান্ড সিরিজে তিনি ১০০ টেস্টের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন। অধিনায়ক হিসেবেও তিনি সেরা—৩৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৭টি জয় তুলেছেন, যা দলের সর্বোচ্চ। ব্যাটিংয়ে মুশফিকই শীর্ষে—৩৮.১২ গড়ে ৬৩২৮ রান, ১২টি সেঞ্চুরি (তিনটি ডাবল)। তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৯* (২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে)।
এছাড়া, সবচেয়ে বড় পার্টনারশিপেও তিনি—২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে সাকিবের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৩৫৯ রান। অন্যান্য ব্যাটারদের মধ্যে তামিম ইকবালের ৫১৩৪ রান (১০ সেঞ্চুরি) এবং সাকিবের ৪৬০০+ রান উল্লেখযোগ্য।
বোলিংয়ে সাকিব আল হাসানের রাজত্ব—৭১ টেস্টে ২৪৬ উইকেট। তাইজুল ইসলাম কাছাকাছি—২৩৬ উইকেট, আর মাত্র ১০ উইকেট দূরে সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।
অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ২০০+ উইকেট। ইনিংসে সেরা বোলিং তাইজুলের—২০১৪ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৯/৮। ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট তিনবার ১২টি—দুবার মিরাজের (সেরা ১১৭/১২, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে)। মোট আটবার বোলাররা ম্যাচে ১০+ উইকেট নিয়েছেন।
ফিল্ডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ মুমিনুল হকের—৪২টি, তারপর মিরাজের ৪১টি। উইকেটকিপিংয়ে লিটন দাস সেরা—১১৪ ডিসমিসাল (৯৯ ক্যাচ, ১৫ স্টাম্পিং)। মুশফিকুরও ১০০+ ডিসমিসাল করেছেন তাঁর ক্যারিয়ারে।
এই ২৫ বছরে বাংলাদেশ কেবল পরিসংখ্যানই গড়েনি, বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানও অর্জন করেছে। শুরুর দুর্বলতা কাটিয়ে এখন ঘরের মাঠে অপরাজেয় শক্তি, আর বিদেশেও চমক দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের আশায় টাইগার ভক্তরা!





